Monday , January 30 2023

টেলিকনফারেন্সিং, ভিডিও কনফারেন্সিং

টেলিকনফারেন্সিং (Teleconferencing):

টেলিফোন সংযোগ ব্যবহার করে কম্পিউটার, অডিও-মডেম-ভিডিও যন্ত্রের সাহায্যে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কোনো সভায় অংশগ্রহণ করার পদ্ধতিকে টেলিকনফারেন্সিং বলা হয় ।  এ পদ্ধতিতে একই স্থানে না এসে ভিন্ন ভিন্ন একদল লোক সভায় মিলিত হয়ে কার্যবিবরণী, মতামত ও রিপোর্ট পেশ করতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে পারে । কয়েকজনের একটি ছোট দল অথবা অনেক লোকের বড় দল এ সভায় মিলিত হতে পারে । এর ফলে সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় হয় থাকে । টেলিফোন সংযোগ ব্যবহার করে কম্পিউটার, অডিও তথা মাইক ও স্পিকার, মডেম এবং প্রয়োজনীয় সফটওয়্যারের সাহায্যে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান হতে টেলিকনফারেন্সিং এ অংশগ্রহণ করা যায় । ১৯৭৫ সালে মরি টারফ এ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন । প্রেসিডেন্ট নিক্সনের আমলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি দ্রুত নিয়ন্ত্রনের জন্য প্রশাসকদের মধ্যে টেলিকনফারেন্সিং ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়।

Teleconferencing

 

ভিডিও কনফারেন্সিং (Video Conferencing):

ভিডিও কনফারেন্সিং হলো ইন্টারনেট নির্ভর একটি অত্যাধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা । যে কোনো ভৌগলিক দূরত্বে অবস্থানকারী একাধিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে টেলিকমিউনিকেশন প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে সংঘটিত যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় কথা বলার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিবর্গ ভিডিওর মাধ্যমে পরস্পরকে সরাসরি প্রত্যক্ষ করতে পারেন, তাকে ভিডিও কনফারেন্সিং বলে । ভিডিও কনফারেন্সিং এর জন্য প্রয়োজন ওয়েবক্যাম, ইন্টারনেট কানেকশন এবং স্পিকারসহ প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার (স্কাইপ, ভাইভাব, হোটাসএপ, ইমো, মেসেঞ্জার ইত্যাদি) । বর্তমানে ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়াও শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে । যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি একটি অতি আধুনিক, দ্রুততম এবং কার্যকর প্রযুক্তি হিসেবে বর্তমানে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ।

Video-Conferencing

 

ভিডিও কনফারেন্সিং প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাসমূহ হচ্ছে-

  • যে কোনো ভৌগলিক দূরত্ব থেকে একাধিক ব্যক্তির মধ্যে একেবারে মুখোমুখি সাক্ষাত-এর ন্যায় বার্তালাপ (লাইভ ভিডিও যোগাযোগ সম্ভব), যা ব্যক্তির সময় ও ভ্রমণ ব্যায় ব্যাপকভাবে সাশ্রয় করে ।
  • ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা সামাজিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষায় কার্যকরী ভূমিকা পালন ।
  • প্রত্যন্ত বা দুর্গম এলাকায় অবস্থায় করেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা সেবা, উন্নত শিক্ষাসহ আরও বিভিন্ন সেবা গ্রহন করা যায় ।
  • যে কোনো ভৌগলিক দূরত্বে থেকে যে কোনো সভা, সমাবেশ, সরকারি কর্মকাণ্ড, অফিশিয়াল মিটিং রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ যে কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা বা বক্তব্য প্রধান করা সম্ভব ।
  • যে কোনো ভৌগলিক দূরত্বে থেকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ অবলোকন, কর্মীদের মনিটরিং, জরুরি অফিসিয়াল সাক্ষাৎ সহ যে কোনো ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনা সম্ভব ।

 

স্কাইপ (Skype):

এটি ফ্রি ভিওআইপি (VOIP) [ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল] সফটওয়্যার । এ সফটওয়্যারটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীগণ নিজেদের মধ্যে অডিও ভিডিও চ্যাটিং সুবিধার পাশাপাশি কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে বিনামূল্যে এবং কম্পিউটার থেকে প্রচলিত টেলিফোনে স্বল্পমূল্যে বিশ্বব্যাপী কথা বলা যায় । মাইক্রোসফট স্কাইপ ডিভিশন এ সফটওয়্যারটি ডেভেলপ করে। sky এবং peer থেকে Skype শব্দটি এসেছে ।

 

ভাইবার (Viber):

ভাইবার (Viber) শব্দটি হলো জাপানিজ কোম্পানি Rakuten কর্তৃক অপারেটকৃত একটি তাৎক্ষনিক বার্তা প্রেরক এবং ভিওআইপি অ্যাপ । ভাইবার এর ব্যবহারকারীকে বিনামূল্যে কথা বলা, এসএমএস আদান-প্রদান, ভিডিও কলিং, গ্রুপ ম্যাসেজিং, লোকেশন শেয়ার প্রভৃতি সুবিধা প্রধান করে । এটি একই সাথে মোবাইল এবং কম্পিউটারে ব্যবহার করা যায় । এর মাধ্যমে সারা পৃথিবীর মানুষ একে অপরের সাথে সংযুক্ত থাকতে পারে । ভাইবার ২০১০ সালের ২ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় ।

 

হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp):

হোয়াটসঅ্যাপ স্মার্টফোনের জন্য জনপ্রিয় একটি মেসেঞ্জার। হোয়াটসঅ্যাপ এর মাধ্যমে চ্যাটসহ, ছবি আদান-প্রদান, ভিডিও ও অডিও মিডিয়া বার্তা আদান-প্রদান, ভিডিও ও অডিও কলিং প্রভৃতি করা যায় । হোয়াটসঅ্যাপ ২০০৯ সালে জ্যান কউম (Jan Koum) ও ব্রায়ান অ্যাক্টন (Brian Action) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয় ।  ২০১৮ সাল পর্যন্ত পৃথিবীব্যাপী হোয়াটসঅ্যাপ এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিলো প্রায় দেড় বিলয়ন যা একে বিশ্বের অন্যতম একটি জনপ্রিয় ম্যাসেজিং অ্যাপে পরিণত করেছে ।

 

ফেসবুক মেসেঞ্জার (Facebook Messenger):

ফেসবুক মেসেঞ্জার (সাধারনভাবে মেসেঞ্জার নামে পরিচিত) একটি জনপ্রিয় মেসেঞ্জার এবং প্লাটফর্ম যা প্রথমে ফেফবুক চ্যাট করার জন্য ২০০৮ সালে চালু হয় পরবর্তীতে এটি পৃথকভাবে একটি ম্যাসেজিং অ্যাপ হিসেবে ২০১০ সালে নতুন আঙ্গিকে রিলিজ করা হয় । বর্তমানে এটি বিশ্বের অন্যতম একটি ভিওআইপি সফটওয়্যার যার মাধ্যমে ইউজারগণ বিশ্বব্যাপী ফ্রি ম্যাসেজিং , অডিও-ভিডিও কলিং ও চ্যাটিং প্রভৃতি করতে সক্ষম হয় ।

 

About admin

Check Also

c programming

সি প্রোগ্রমিং (C Programming) ও সি ভাষার প্রোগ্রামের গঠন

সি প্রোগ্রমিং (C Programming) C হচ্ছে মধ্য পর্যায়ের হাই-লেভেল ল্যাঙ্গুয়েজ। এটি শক্তিশালী প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। এ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *